ঢাকা-দিল্লি, একইসঙ্গে দু’দেশের সহযোগিতার সম্পর্ক আরো জোরদার করতে একমত হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। আর ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। বৈঠকে দু’ দেশের মধ্যে কোভিড ভ্যাকসিন, বাণিজ্য, কানেক্টিটিভিটি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, জল বণ্টন ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। বৈঠকে মোমেন করোনা মহামারির সময় সহযোগিতা ও দুই লক্ষাধিক ডোজ টিকা সরবরাহের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এছাড়া উভয়পক্ষ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উপায় নির্ধারণের পাশাপাশি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে মুজিব শতবর্ষের উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর যৌথ উদযাপনের পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছরের উদযাপন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন চারদিনের সফরে দিল্লি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় গিয়েছিলেন। সে সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। ডিসেম্বরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন দিল্লি সফরে আসতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সেই সফর বাতিল হয়।
দিল্লিতে ইজরায়েলের দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরনের ঘটনা
এদিকে দিল্লিতে ইজরায়েলের দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এখনও কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে উঠে দূতাবাস সংলগ্ন এলাকা।
জানা যায়, দূতাবাস থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে জিন্দাল হাউসে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানিয়েছে তাঁরা। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে এটা সন্ত্রাসবাদী হামলা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তকারী দল।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ইজরায়েলের কূটনীতিকের গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ইরানের হাত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে রীতিমতো কূটনৈতিক চাপ শুরু হয়েছিল তেল আবিব, নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে। উল্লেখ্য, রাজধানীর বিজয়চক থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে।
সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আজ সেখানে বিটিং দ্য রিট্রিট অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এদিকে, দিল্লি সীমান্তে চলছে কৃষক বিক্ষোভও। এহেন পরিস্থিতিতে রাজধানীর বুকে বিস্ফোরণে রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তা মহল।
এই বিস্ফোরণের ঘটনাকে জঙ্গি হামলা বলে সন্দেহ করছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনার পরেই এলাকায় ছুটে যায় দমকল। বিস্ফোরণের আঁচ করতে দিল্লি পুলিশের ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে, দূতাবাসের প্রায় দেড়শো মিটার দূরে আমোনিয়াম নাইট্রেট জাতীয় বিস্ফোরক রাখা ছিল। এর আগে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লির ইজরায়েলি দূতাবাসের একটি গাড়িতে স্টিকার বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার পিছনে ইরানের মদতেপুষ্ট জঙ্গিদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।
আরো দেখুনঃ